Monday, January 28, 2019

'প্রশাসনের সবাইকে ম্যানেজ করা, কিছুই হবে না’, কুলে ইথিলিন অ্যাসিড-শ্যাম্পু

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় মৌসুম শুরু হতে না হতেই কুল লোভনীয় করে বাজারজাত করতে বাগানেই ইথিলিন অ্যাসিড ব্যবহার এবং তা সংগ্রহ করে শ্যাম্পু দিয়ে চকচকে করা হচ্ছে। ফলে কুলের গুণগত মান তো থাকছেই না বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে পড়ছে। কৃষির অন্যতম অর্থনৈতিক জোন হিসেবে সাতক্ষীরার খ্যাতি ধরে রাখতে প্রশাসনিক তদারকির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তালায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে আম ও কুলের চাষ। অনেক ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে মৎস্যঘেরের বেড়িতে এ দুই ফলের চাষ হচ্ছে। অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অভ্যন্তরীণ রুটের ব্যবসায়ীরা ফল পাড়ার সাথে সাথে আবারো গাছ ক্রয় করে থাকেন। এরপর গাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত ফলন পেতে রাসায়নিক দ্রব্যের সাথে বিভিন্ন পদের হরমোন ব্যবহার করে। যা মানবদেহের ক্যান্সার থেকে শুরু করে লিভার, কিডনি, চর্ম এমনকি মানসিকবিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুল পাকার মোক্ষম সময় শুরু না হলেও কুল পাড়তে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা অপরিপক্ব কুলে ইথিলিন এসিডের সংক্রমণ ঘটিয়ে একসাথেই বাগানের কুল পাকিয়ে বাজারজাত করছেন। প্রাকৃতিকভাবে কুল পাকার সঠিক সময় গাছের দু’-একটি কুল পাকলে তা থেকে ইথিলিন অ্যাসিড পুরো গাছে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুল পাকতে একটু সময় লাগে। তাই ব্যবসায়ীরা একবারেই কুল বাজারজাত করতে ইথিলিন এসিড ব্যবহার করছেন। গাছ থেকে কুল সংগ্রহ করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে প্যাকেট করা হচ্ছে। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা উপজেলার ভৈরবনগর নামক স্থানে এমনটি দেখা মেলে। যেখানে আড়তেই ব্যবসায়ীরা প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে কুল ক্রয় করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য না রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে তা প্যাকেট করছে। এ সময় তাদের কাছে শ্যাম্পু দিয়ে কেন ধোয়া হচ্ছে তা জানতে চাইলে তারা জানান, সবাই ধুচ্ছে তাই আমরাও ধুচ্ছি। এটা অপরাধ জানালেও তারা বলেন, আমাদের প্রশাসনের সবাইকে ম্যানেজ করা, কিছুই হবে না। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরীন বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্য সংগ্রহ: দৈনিক ইত্তেফাক।

Tuesday, January 22, 2019

৯ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে ভর্তি সিলেটের কায়রান!

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির গড় বয়স ১৭-১৯, খুব মেধাবী হলেও ১৪-১৫ বছরের নিচে। সেই রেকর্ড ভাঙল সিলেটের ৯ বছরের শিশু কায়রান। তাও যেনতেন কোনো বিষয় নয়, রীতিমতো গণিত ও রসায়ন নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার লাস পজিটাস কলেজে পড়ছে সে। জানা যায়, কায়রানের মা কাজী জুলিয়া চৌধুরী কাজী ও বাবা মোস্তাহিদ কাজী। তাদের পূর্বপুরুষ সিলেটের বাসিন্দা। কায়রানের এমন অভাবিত প্রতিভাকে প্রথম সবার সামনে তুলে ধরে হাফিংটন পোস্ট। এই পোস্টে খবর প্রকাশের পর কায়রানকে ঘিরে আমেরিকায় আলোচনা শুরু হয়। তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় জনপ্রিয় টিভি শো গুড মর্নিং আমেরিকাতে। পরে ডেইলি মেইল, আইরিশ টাইমস ও পশ্চিমা গণমাধ্যমও কায়রানকে নিয়ে কয়েকটি সংবাদ ছাপে। হাফিংটন পোস্টে নিজের সম্পর্কে কায়রান লিখেছে, তৃতীয় গ্রেডে থাকা অবস্থায় ডাক্তাররা পরীক্ষা করে জানায়, আমার আইকিউ ৯৯.৯ শতাংশ। আমার ইকিউ বা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সও অনেক বেশি। অভিভাবকরাও আমার যত্ন নিতেন। ধরে নেওয়া হয়, আমার কাছে প্রকৃতি প্রদত্ত কিছু রয়েছে। আমি ভর্তি হলাম মিনেসা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। অধিক বুদ্ধিসম্পন্ন শিশুদের সাহায্য করার ব্যাপারে আমার মা-বাবাও শিখছিলেন। আমি ডেভিডসন ইনস্টিটিউটের ইয়ং স্কলার নির্বাচিত হই। আমাকে ভর্তি করা হয় বিশেষায়িত স্কুলে। এখন আমি চতুর্থ গ্রেড ও কলেজ- দুইটিতেই পড়ছি। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা বিষয়ে কায়রানের বক্তব্য, কলেজে শিক্ষাজীবন শুরুর আগে আমার যেসব বিষয় ভালো লাগত, আমি সেসব বিষয়ে আগ্রহ দেখাতাম ও চেষ্টা করতাম। কলেজের প্রথম কোর্স হিসেবে তারা আমাকে অ্যালজেবরা-১ কোর্সটি নিতে বলে, যেন আমি কলেজের পড়ালেখায় অভ্যস্ত হই। কিন্তু আমি বিরক্ত হতাম ও ক্লাসে ভিডিও গেমস খেলতাম। তবে আমিই মা-বাবাকে পীড়াপীড়ি করি, যেন আমাকে আরও কঠিন কোর্স দেওয়া হয়। যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় দেখা গেল, আমি ক্যালকুলাস নিতে সক্ষম, যা আমার বর্তমান ধাপেরও চার ধাপ পরের কোর্স। তখন তারা বিশ্বাস করতে শুরু করল, আমি আসলে জানি আমার কী করা প্রয়োজন।
সে আরো বলে, কলেজে শিক্ষকরা আমাকে আর দশটা শিক্ষার্থীর মতোই দেখেন। আমি অন্যদের মতো একই নিয়ম মেনে চলি। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ক্ষেত্রেও আমার জন্য বিশেষ কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। এটাও বাকি সবার মতো করেই করা হয়। কায়রান জানায়, খুব মিশুক হওয়ায় কলেজে তার অনেক বন্ধু। এমনকি তারা কায়রানের কাছে শিখতে চায়। যদিও ক্যাম্পাসে প্রথম প্রথম অন্যরা তার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকাত ও আড়ালে ছবি তুলত। কায়রানের ভাষ্য, ‘তারা আমাকে কিউট ও স্মার্ট বলে। আমি তাদের সঙ্গে পরিচিত হই ও বন্ধু হতে চাই।' বি:দ্র: সংগৃহীত ছবি।