Tuesday, June 11, 2019

মেইলে আসা অ্যাটাচমেন্ট থেকে সাবধান....ঘটে যেতে পারে বড় বিপদ

নিরীহদর্শন একটি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফাইলও আপনার বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। মেইলে অপরিচিত উৎস থেকে আসা যেকোনো অ্যাটাচমেন্ট খোলার আগে সাবধান থাকা জরুরি। মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হচ্ছে, আপনার ই-মেইলে অ্যাটাচমেন্ট আকারে মাইক্রোসফট অফিস ডকুমেন্ট এলে তা ডাউনলোড ও খোলার আগে সতর্ক থাকা উচিত। সাইবার দুর্বৃত্তরা অফিস সফটওয়্যারের ত্রুটি কাজে লাগিয়ে একটি স্প্যাম কর্মসূচি চালাচ্ছে বলে সম্প্রতি সতর্কতা জারি করেছে বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতা মাইক্রোসফট। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অ্যাটাচমেন্টের আকারে ক্ষতিকর ভাইরাসপূর্ণ ডকুমেন্ট পাঠিয়ে ব্যবহারকারীর ডিভাইসে আক্রমণ চালানো হয়। এতে মেইলে পাঠানো ‘আরটিএফ ডকুমেন্ট’ খুললেই ডিভাইস আক্রান্ত হয়। ইউরোপের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর হার সম্প্রতি বেড়েছে। মাইক্রোসফটের নিরাপত্তা গবেষকেরা বলছেন, চলমান স্প্যাম কর্মসূচির মধ্যে যে আরটিএফ ডকুমেন্ট আছে, তা মাইক্রোসফট অফিস, ওয়ার্ড প্যাড সিভিই-২০১৭-১১৮৮২–এর নিরাপত্তা দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। ব্যবহারকারী যদি মেইলে আসা অ্যাটাচমেন্ট খোলেন, তবে তিনি আক্রান্ত হবেন। মাইক্রোসফট বলছে, ২০১৭ সালে ওই নিরাপত্তাত্রুটি ঠিক করতে প্যাচ ছাড়া হয়েছিল। তবে এখনো ওই ত্রুটি কাজে লাগিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি ও আক্রমণ আরও বেড়েছে। মাইক্রোসফট দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছে। মাইক্রোসফটের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন কোনো ব্যবহারকারী আক্রান্ত অ্যাটাচমেন্ট খোলেন, তখন ওই ফাইলটি ভিবিস্ক্রিপ্ট, পাওয়ারশেল, পিএইচপি বা অন্যান্য ভাষায় লেখার কয়েক ধরনের স্ক্রিপ্ট চালানোর চেষ্টা করে। এ স্ক্রিপ্টগুলো পেস্টবিন রিপোজিটরি থেকে ডাউনলোড হয়। এতে ব্যাকডোর ট্রোজান সিস্টেমে আক্রমণ করে। এ প্রোগ্রাম তখন ক্ষতিকর কোনো ডোমেইনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যায়। মাইক্রোসফট বলছে, ওই ক্ষতিকর ডোমেইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ আরও বাড়তে পারে। যাঁরা নভেম্বর ২০১৭ প্যাচ হালনাগাদ করেছেন, এ নিয়ে তাঁদের আর ঝুঁকি নেই। যাঁরা সফটওয়্যার হালনাগাদ করতে ভুলে গেছেন, তাঁদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে এ নিরাপত্তাত্রুটি।

Tuesday, January 22, 2019

৯ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে ভর্তি সিলেটের কায়রান!

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির গড় বয়স ১৭-১৯, খুব মেধাবী হলেও ১৪-১৫ বছরের নিচে। সেই রেকর্ড ভাঙল সিলেটের ৯ বছরের শিশু কায়রান। তাও যেনতেন কোনো বিষয় নয়, রীতিমতো গণিত ও রসায়ন নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার লাস পজিটাস কলেজে পড়ছে সে। জানা যায়, কায়রানের মা কাজী জুলিয়া চৌধুরী কাজী ও বাবা মোস্তাহিদ কাজী। তাদের পূর্বপুরুষ সিলেটের বাসিন্দা। কায়রানের এমন অভাবিত প্রতিভাকে প্রথম সবার সামনে তুলে ধরে হাফিংটন পোস্ট। এই পোস্টে খবর প্রকাশের পর কায়রানকে ঘিরে আমেরিকায় আলোচনা শুরু হয়। তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় জনপ্রিয় টিভি শো গুড মর্নিং আমেরিকাতে। পরে ডেইলি মেইল, আইরিশ টাইমস ও পশ্চিমা গণমাধ্যমও কায়রানকে নিয়ে কয়েকটি সংবাদ ছাপে। হাফিংটন পোস্টে নিজের সম্পর্কে কায়রান লিখেছে, তৃতীয় গ্রেডে থাকা অবস্থায় ডাক্তাররা পরীক্ষা করে জানায়, আমার আইকিউ ৯৯.৯ শতাংশ। আমার ইকিউ বা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সও অনেক বেশি। অভিভাবকরাও আমার যত্ন নিতেন। ধরে নেওয়া হয়, আমার কাছে প্রকৃতি প্রদত্ত কিছু রয়েছে। আমি ভর্তি হলাম মিনেসা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। অধিক বুদ্ধিসম্পন্ন শিশুদের সাহায্য করার ব্যাপারে আমার মা-বাবাও শিখছিলেন। আমি ডেভিডসন ইনস্টিটিউটের ইয়ং স্কলার নির্বাচিত হই। আমাকে ভর্তি করা হয় বিশেষায়িত স্কুলে। এখন আমি চতুর্থ গ্রেড ও কলেজ- দুইটিতেই পড়ছি। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা বিষয়ে কায়রানের বক্তব্য, কলেজে শিক্ষাজীবন শুরুর আগে আমার যেসব বিষয় ভালো লাগত, আমি সেসব বিষয়ে আগ্রহ দেখাতাম ও চেষ্টা করতাম। কলেজের প্রথম কোর্স হিসেবে তারা আমাকে অ্যালজেবরা-১ কোর্সটি নিতে বলে, যেন আমি কলেজের পড়ালেখায় অভ্যস্ত হই। কিন্তু আমি বিরক্ত হতাম ও ক্লাসে ভিডিও গেমস খেলতাম। তবে আমিই মা-বাবাকে পীড়াপীড়ি করি, যেন আমাকে আরও কঠিন কোর্স দেওয়া হয়। যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় দেখা গেল, আমি ক্যালকুলাস নিতে সক্ষম, যা আমার বর্তমান ধাপেরও চার ধাপ পরের কোর্স। তখন তারা বিশ্বাস করতে শুরু করল, আমি আসলে জানি আমার কী করা প্রয়োজন।
সে আরো বলে, কলেজে শিক্ষকরা আমাকে আর দশটা শিক্ষার্থীর মতোই দেখেন। আমি অন্যদের মতো একই নিয়ম মেনে চলি। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ক্ষেত্রেও আমার জন্য বিশেষ কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। এটাও বাকি সবার মতো করেই করা হয়। কায়রান জানায়, খুব মিশুক হওয়ায় কলেজে তার অনেক বন্ধু। এমনকি তারা কায়রানের কাছে শিখতে চায়। যদিও ক্যাম্পাসে প্রথম প্রথম অন্যরা তার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকাত ও আড়ালে ছবি তুলত। কায়রানের ভাষ্য, ‘তারা আমাকে কিউট ও স্মার্ট বলে। আমি তাদের সঙ্গে পরিচিত হই ও বন্ধু হতে চাই।' বি:দ্র: সংগৃহীত ছবি।